আজ ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। দেশের ইতিহাসে গৌরব ও অহঙ্কারের দিন। বাঙালির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দময় মুহূর্ত। ১৯৭১ সালের এই দিন বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন-সার্বভৌম নতুন একটি দেশের জন্ম হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলার দামাল ছেলেদের কাছে এই দিনে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবনত মস্তকে আত্মসমর্পণ করে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। সেদিন জাতি নির্ভয়ে গেয়ে উঠেছিল অবিনাশী গান—‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার/সারাবিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহঙ্কার।’ তারই ধারাবাহিকতায় বাঙালি প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। আনন্দ-উত্সব ও শ্রদ্ধার এক অপূর্ব সম্মিলনে দেশের সর্বত্রই আজ পালিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ৩৮তম বার্ষিকী। জাতি শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ করবে পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্তির সংগ্রামে
ঝাঁপিয়ে পড়া শহীদদের। দিবসটি উপলক্ষে এ বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ধুমধামের সঙ্গে দিবসটি উদযাপন করছে। ভোরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ তারা বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং দেশবাসী, প্রবাসী বাংলাদেশী, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিদেশেও বাংলাদেশী মিশনগুলো বিজয় দিবসের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আজ সরকারি ছুটির দিন। ঢাকার বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোও আজ বিজয় দিবসে বন্ধ থাকবে। সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি সব ভবনে উত্তোলন করা হয়েছে জাতীয় পতাকা। সংবাদপত্রগুলোও এ উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। সারাদেশে চলবে আনন্দ অনুষ্ঠান। বিজয় দিবস উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। এদিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ বিজয় দিবসের সব অনুষ্ঠান ঘিরেই গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাবলয়।
আজ থেকে ৩৮ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালির দেশপ্রেম, ঐক্য ও শৌর্যবীর্যের কাছে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা ৩১ মিনিটে ঢাকার তত্কালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তি আর মিত্রবাহিনীর সামনে অস্ত্র ফেলে দিয়ে হানাদাররা অবনত মস্তকে দাঁড়ায়।
একই বছর ২৬ মার্চ বিজয় অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে অকুতোভয় বাঙালি জাতি যে যুদ্ধ শুরু করে তার সমাপ্তি হয় ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এক আনন্দ-বেদনার সম্মিলনে।
বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস শুধু একাত্তরেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে স্ফুরিত জাতীয় চেতনার পথ ধরে ধারাবাহিক সংগ্রামে ১৯৬৯ সালে ঘটে গণতন্ত্র ও জাতীয় অধিকারের জন্য গণঅভ্যুত্থান। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফলে তত্কালীন পাকিস্তানে বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষার বিস্ফোরণ ঘটে। কিন্তু সেই নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনের সুযোগ না দিয়ে পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালিকে রক্তস্রোতে ভাসিয়ে দিতে চায়, শুরু করে গণহত্যা। সশস্ত্র প্রতিরোধের পথ ধরে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং বিজয় অর্জন ছিল ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি।
আজ রাজধানী ঢাকা থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত উদযাপিত হবে বিজয় দিবস। ঢাকায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বিজয় উত্সবের মতো ডিসেম্বরের প্রথম থেকেই শুরু হয়েছে নানা আয়োজন।
সশস্ত্রবাহিনী সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দর এলাকায় ৩১ বার তোপধ্বনি করে দিবসের অনুষ্ঠানমালা শুরু করবে। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর বাদক দল রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করবে। ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, মংলা ও বরিশালে নৌবাহিনীর ক’টি জাহাজ বেলা ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর সব মসজিদে বাদ জোহর বিশেষ মোনাজাতেরও আয়োজন করা হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, বিরোধীদলীয় নেত্রী, প্রধানমন্ত্রী বিদেশে থাকায় তারপক্ষে সংসদ উপনেতাসহ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতারা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারসহ বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, কূটনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
আমাদের সাভার প্রতিনিধি নজমুল হুদা শাহীন জানান, বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতি, বিরোধীদলীয় নেত্রী, সংসদ উপনেতা, সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জাতীয় নেতা ও সর্বস্তরের মানুষের পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় নেয়া হয়েছে তিন স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্মৃতিসৌধ এলাকায় মোতায়েন থাকবেন সেনা, র্যাব, বিডিআর, পুলিশসহ নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, র্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পৃথকভাবে স্মৃতিসৌধের নিরাপত্তা ও বিভিন্ন কাজের অগ্রগতির খোঁজ নিতে গতকাল স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেছেন।
সূর্যোদয়ের আগেই রাষ্ট্রপতি সর্বপ্রথম স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে দিবসের সূচনা করবেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, স্পিকার, বিদেশি কূটনীতিক, শহীদ পরিবারের সদস্যরা বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর সবার জন্য সৌধ উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। স্মৃতিসৌধের নিরাপত্তার বিষয়ে আলাপকালে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার ইকবাল বাহার পিপিএম জানান, ঢাকা জেলা ও রেঞ্জ এবং ডিএমপি থেকে দুই হাজার একশ’ পুলিশ স্মৃতিসৌধের নিরাপত্তা ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি র্যাবে প্রায় ৮শ’ সদস্য ও এপিবিএন এবং আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সন্ধ্যার আগে আমিনবাজার থেকে প্রতিটি ব্রিজের দু’পাশে এবং মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মধ্যরাত থেকে এসএসএফ সদস্যরা পুরো স্মৃতিসৌধের দায়িত্বে থাকবেন।
নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রয়েছে স্মৃতিসৌধের বিশাল চত্বর। র্যাব-৪ সাভার ক্যাম্পের ইনচার্জ স্কোয়াড্রন লিডার শাহ মিজান-উল-হক জানান, পোশাকের র্যাব সদস্যরা ছাড়াও সাদা পোশাকের র্যাব ঢাকা থেকে সাভার পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
একাত্তরের সেই আনন্দময় দিনটি : ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকালে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের কর্মকর্তা জন আর কেলি পৌঁছেন সেনানিবাসের কমান্ড বাঙ্কারে। সেখানে নিয়াজি নেই, ফরমান আলিকে পাওয়া গেল বিবর্ণ ও বিধ্বস্ত অবস্থায়। ফরমান আলি জানান, আত্মসমর্পণ সংক্রান্ত মিত্রবাহিনীর প্রস্তাব তারা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সেই সংবাদ জানাতে পারছেন না। প্রস্তাব দেয়া হলো জাতিসংঘের বেতার সংকেত ব্যবহারের। আত্মসমর্পণের জন্য বেঁধে দেয়া সময় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে আরও ছয় ঘণ্টা বাড়িয়ে আত্মসমর্পণের বার্তা পৌঁছানো হয় জাতিসংঘের বেতার সংকেত ব্যবহার করে। ভারতে তখন সকাল ৯টা ২০ মিনিট। কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডের (বর্তমান শেক্সপিয়র সরণি) একটি দোতলা বাড়িতে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম সচিবালয় আর প্রধানমন্ত্রীর দফতর। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের সকাল। আনুমানিক সকাল ১০টায় তাজউদ্দীন আহমদের ফোন বেজে উঠল। ওই ফোনে গুরুত্বপূর্ণ কেউ ছাড়া ফোন করতে পারে না। কী কথা হলো জানা না গেলেও তার চোখ-মুখে আনন্দের ছাপ বোঝা গেল। ফোন রেখেই প্রধানমন্ত্রী জানালেন, ‘সবাইকে জানিয়ে দিও, আজ আমরা স্বাধীন। বিকাল ৪টায় আত্মসমর্পণ।
এদিকে কিছুক্ষণ আগে ঢাকায় খবর এসে পৌঁছেছে। বিকাল সাড়ে ৪টায় আত্মসমর্পণ হবে। ঢাকাবাসী কী করবে আর কী করবে না বুঝে উঠতে পারছে না। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মিত্রবাহিনী ঢাকায় প্রবেশ করল। এর আগেই মিরপুর ব্রিজ দিয়ে ঢাকায় ঢুকে পড়েছেন কাদের সিদ্দিকী।
পৌষের সেই পড়ন্ত বিকালে ঢাকা রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রস্তুত হলো ঐতিহাসিক এক বিজয়ের মুহূর্তের জন্য। বিকাল ৪টা ৩১ মিনিটে পাকিস্তানের সামরিক আইন প্রশাসক জোন-বি এবং ইস্টার্ন কমান্ডের কমান্ডার লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজির নেতৃত্বে আত্মসমর্পণ করে ৯১ হাজার ৫৪৯ জন হানাদার সেনা। মেজর জেনারেল জ্যাকবের তৈরি করা আত্মসমর্পণের দলিলে বিকালে সই করলেন লে. জেনারেল নিয়াজি ও লে. জেনারেল জগজিত্ সিং অরোরা। মুজিবনগর সরকারের পক্ষে এ সময় উপস্থিত ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন একে খন্দকার। ৯ মাসের জঠর-যন্ত্রণা শেষে জন্ম নিল একটি নতুন দেশ—বাংলাদেশ।
রাষ্ট্রপতির বাণী : রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান বাণীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সব বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযোদ্ধাদের অপরিসীম ত্যাগ ও বীরত্বগাথা চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের লক্ষ্য একটি সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ পৃথক জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলেও বিজয় অর্জনের প্রায় চার দশকে সে লক্ষ্য অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাও বহুবার ব্যাহত হয়েছে। বর্তমান সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে ‘ভিশন ২০২১’ ঘোষণা করেছে। সে লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তবেই অর্জিত হবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসের কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসীম সাহসী নেতৃত্বে বাঙালি জাতির দীর্ঘ ২৩ বছরের লড়াই-সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর ৩৮ বছর পেরিয়ে গেলেও স্বাধীনতার স্বপ্নসাধ এখনও পূরণ হয়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে পরাজিত শক্তি হত্যা-ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি দিয়ে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তারা ধ্বংস করতে চেয়েছিল সংবিধান, গণতন্ত্র, মানবতা, সংস্কৃতি, উন্নয়নসহ আমাদের মহত্ত্বম অর্জনগুলো।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতি রায় দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে, উন্নয়নের পক্ষে, দিনবদলের পক্ষে। আজ সময় এসেছে মুক্তিযুদ্ধের ফসল প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছে দেয়ার। আমাদের সরকার মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসির রায় বহাল হয়েছে। আমরা আশাবাদী, অচিরেই জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের বাণী : বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বিজয় দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার সুরক্ষায় গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের সবচেয়ে গৌরবময় অর্জন স্বাধীনতা। ১৬ ডিসেম্বরে হানাদার বাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।
তিনি বলেন, আজকের এই মহান দিনে আমি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমি অভিনন্দন জানাই। যুদ্ধে যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা। আমি স্মরণ করছি সেসব মা-বোনের কথা, মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য যারা চরম ত্যাগ স্বীকার করেছেন, বিভিন্নভাবে অবদান রেখেছেন।
তিনি বলেন, শোষণ-বঞ্চনাহীন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়েই এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। স্বাধীনতার বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র বাধাগ্রাস্ত হয়েছে, জনগণের মৌলিক ও মানবিক অধিকার খর্ব হয়েছে; কিন্তু প্রতিবারই এ দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে।
বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হলেও দুশমনদের শ্যেন দৃষ্টি আজও বিদ্যমান। আধিপত্যবাদী শক্তি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে গ্রাস করে আমাদের পদানত জাতিতে পরিণত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত। ওই অপশক্তির নীলনকশা বাস্তবায়নে এ দেশেরই কিছু চিহ্নিত মহল মদত জুগিয়ে চলেছে। তাদের হাত থেকে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্রকে বিপদমুক্ত করতে স্বাধীনতার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান হয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
দিনব্যাপী কর্মসূচি : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সকাল সাড়ে ৭টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারাদেশে সংগঠনের কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সাড়ে ৭টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতিহা পাঠ, বিকাল ৩টায় বিজয় দিবসের শোভাযাত্রা এবং আগামীকাল আলোচনা সভা করবে। দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় কাজে বিদেশ থাকায় তারপক্ষে দলের সিনিয়র নেতারা এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
বিএনপি বিজয় দিবস উপলক্ষে ভোর ৬টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মোনাজাত করা হবে। আগামীকাল ১৭ ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিজয় শোভাযাত্রা বের হবে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন সকাল ১০টায় নগরভবন চত্বরে ঢাকা মহনগরীর দুই নম্বর সেক্টরে এবং ঢাকায় বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্মিলনীর আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভোরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দুপুর ১২টায় মগবাজারের আল ফারাহ মিলনায়তনে দোয়া মাহফিল।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিজয় শোভাযাত্রা বের করবে। বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও রবীন্দ্র সরোবরে একযোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে। এছাড়া জাতীয় পার্টি, বিকল্পধারা, এলডিপি, জেএসডি, গণফোরাম, বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (ইনু), জাসদ (জিকু), গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন, ঢাকা ক্লাব, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলার সংস্কৃতি আন্দোলন, বাংলাদেশ সংস্কৃতি কেন্দ্র, শ্রমিক ফ্রন্ট, যুবলীগ, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্রমুক্তি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, অরকা, নজরুল একাডেমি, নজরুল
বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৯
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

বিজয় দিবস এর সব রকম এসএমএস, ওয়ালপেপারের কালেকশন। দেখে নিতে পারেন
উত্তরমুছুন